স্বাস্থ্য

রক্তে চর্বি বেড়ে গেলে কী করবেন

রক্তে চর্বি বেড়ে গেলে কী করবেন

বয়সের সঙ্গে বাড়তে থাকে আমাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা। তবে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখা কঠিন কাজ নয়।

চর্বি জাতীয় খাবার, ভাজাপোড়া ও মসলা জাতীয় খাবার আমাদের শরীরে খারাপ চর্বির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। খারাপ চর্বি নিয়ন্ত্রণ করলেই রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।

উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপানের অভ্যাস, অতিরিক্ত মেদভুঁড়ি, রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেশি, জেনেটিক কারণ, অলস জীবনযাপন, কায়িক পরিশ্রম কম করে তাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার আশংকা থাকে। এছাড়া যাদের এই ঝুঁকি থাকে তাদের কম ঘনত্বের কোলেস্টেরল বা ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের মাত্রা ৭০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে থাকা উচিত।

রক্তে খারাপ চর্বি বেড়ে গেলে দুর্বলতা বা অবসাদগ্রস্ত, বুকে ব্যথা, বদ হজম হয়ে থাকে।

পরিবারের বা বাবা-মায়ের হৃদরোগের ইতিহাস এবং আপনার হৃদরোগ হওয়ার মতো ঝুঁকি রয়েছে কি না সেটা জেনে সাধারণত জীবনাচরণ পদ্ধতি পরিবর্তন, চর্বি জাতীয় খাবার বর্জ, শাকসবজী ও ফলমূল খেলে কোলেস্টেরল স্বাভাবিক মাত্রায় আনা সম্ভব।

এছাড়া কীভাবে কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিম্নে আলোচনা করা হলো :

চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার : কোলেস্টেরল কমানোর সহজ উপায় হচ্ছে বেশি কোলেস্টেরলযুক্ত  বা চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করা। তবে শুধু খাবারের কোলেস্টেরলই রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ানোর জন্য দায়ী নয়। সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যেমন- মাখন, চর্বিযুক্ত গরুর মাংস ও খাসির মাংসের কলিজা, মগজের  পরিবর্তে অসম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যেমন : সয়াবিন তেল, সূর্যমুখী তেল, জলপাইয়ের তেল খাওয়া যেতে পারে।

ব্যায়াম : শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম শুধু রক্তে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় না, উপকারী কোলেস্টেরলের পরিমাণ (বেশি ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন কোলেস্টেরল) ১০ শতাংশ বাড়ায়। জোরে জোরে হাঁটলেও এমন উপকার পাওয়া যায়। নৈশভোজের পর কমপক্ষে ৪৫ মিনিট তাহলে উপকৃত হবেন।

আঁশযুক্ত খাবার : সবজি এবং ফলমূল শরীরের জন্য উপকারী। এগুলো রক্তে কোলেস্টেরলও কমায়। দ্রবণীয় আঁশ পরিপাক নালি থেকে স্পঞ্জের মতো কোলেস্টেরল শুষে নেয়। রক্তচাপ বেশি হলে অতিরিক্ত রসালো জাতীয় ফল না খওয়াই ভালো।

মাছ : মাছ ও মাছের তেল কোলেস্টেরল হ্রাস করতে সাহায্য করে। মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। এটি রক্ত থেকে কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য ক্ষতিকর চর্বি কমিয়ে ফেলে। সপ্তাহে অন্তত চার দিন মাছ খাওয়া উচিত। বিভিন্ন উদ্ভিদজাত খাবারেও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়। যেমন- সয়াবিন তেল, কাঠবাদাম তেল ইত্যাদি।

মদ্যপান পরিহার :  অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। মদ সেবন থেকে বিরত থাকুন।

ধূমপান পরিহার করুন : ধূমপানে রক্তে উপকারী কোলেস্টেরল বা বেশি ঘনত্বের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবশ্যই ধূমপান ছেড়ে দিতে হবে।

জন্ম নিয়েন্ত্রণ বড়ি : জন্ম নিয়েন্ত্রণ বড়ি সেবনে নারীদের তলপেটে খারাপ চর্বি জমে। এই বড়ি সেবন পরিহার করলে নারীদের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ : ইউরিক এসিড যদি নিয়ন্ত্রণে থাকে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রক্তের কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। রক্তে কোলেস্টেরল কমাতে হলে অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তাদের অবশ্যই জীবনাচরণ পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। যদি হৃদরোগের উপসর্গ থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ সেবন করতে হবে।

ইউটিউবে আমাদের রান্নার সব ভিডিও দেখতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুণ

To Top
[X]