জাতীয়

অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় এসএসসির স্বপ্ন ব্যর্থ!

অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় এসএসসির স্বপ্ন ব্যর্থ!

অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করতে না পারায় এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারছে না টাঙ্গাইলের তাসলিমা খাতুন। ফলে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে আপাতত কলেজ যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না তার।

তাসলিমা খাতুন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নরদহি গ্রামের মজিবরের মেয়ে। এ বছর নরদহি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নরদহি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ৭৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। যার মধ্যে নির্বাচনী পরীক্ষায় ১৭ জন শিক্ষার্থী সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এদের মধ্যে তাসলিমা খাতুনও ছিল। সে নিবাচনী পরীক্ষায় দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফরম পূরণের জন্য দুই হাজার টাকা বোর্ড ফি নির্ধারিত থাকলেও নরদহি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চার থেকে সাড়ে হাজার টাকা নিয়েছে। তাসলিমার পরিবার দরিদ্র হওয়ায় ওই টাকা জোগাড় করতে না পারায় তাঁর ফরম পূরণ হয়নি।

অনেক কষ্টে দুই হাজার টাকা জোগাড় করে বারবার বিদ্যালয়ে গিয়েও ফরম পূরণ করতে পারেনি তাসলিমা। সর্বশেষ গত ২০ নভেম্বর তিন  হাজার টাকা নিয়ে গেলে ফরম পূরণের সময় শেষ হয়ে গেছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়। ফলে তাসলিমার স্বপ্ন পূরণে বাধা পড়ে।

এ বিষয়ে তাসলিমার মা রাশেদা বেগম বলেন, ‘‌আমি প্রথমে দুই হাজার, পরে তিন হাজার টাকা নিয়ে স্কুলে গিয়ে কাকুতি-মিনতি করেছি। কিন্তু মাস্টারদের মন গলাতে পারিনি। মেয়েটি এখন ঘরে বসে শুধু কান্নাকাটি করে।’

তাসলিমার সহপাঠীরা জানায়, বিষয়টি তাসলিমার পরিবার কাউকে জানায়নি। যখন তারা জানতে পারে তখন ফরম পূরণের সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হয়নি।

এ ব্যাপারে তাসলিমা আক্তার এনটিভি অনলাইনকে বলে, ‘সামান্য কিছু টাকার জন্য এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলাম না। সহপাঠীরা সবাই কলেজে যাবে কিন্তু আমি যেতে পারব না। ভবিষ্যতে আমার পড়ালেখা আর হবে কি না তাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’

ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবর রহমান বলেন, ‘যেহেতু সে পরীক্ষায় খারাপ করেছে তাই এ বছর তাকে পরীক্ষা দিতে দেবে না বলে তার পরিবার আমাদের জানিয়েছে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য তার পরিবারকে বলেছিলাম কিন্তু তার পরিবার আগ্রহ দেখায়নি।’

এ সময় প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, ‘আমরা কারো কাছেই চার হাজার টাকা নেইনি। এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। অভিযোগ সত্য হলে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করব।’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম বলেন, ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানের জরিমানা ছাড়াও এমপিও বাতিল করা হবে বলে জানান তিনি।

অতিরিক্ত ফি না নিতে সতর্ক করে আগেই জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা কর্মকর্তা।

'বাসার বাজার করেছেন তো? বাজার করুন চালডালে - সময় বাচাঁন, খরচ বাচাঁন। সেরা দামে সবকিছু মাত্র এক ঘন্টায়।'

To Top
[X]