তথ্যপ্রযুক্তি

ভিসা পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ওয়ান-টু’র ব্যাপার!

ভিসা পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ওয়ান-টু’র ব্যাপার!

বাংলাদেশের আয়ের অন্যতম উৎস রেমিট্যান্স। যা আসে প্রবাসী শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে। সহজ-সরল এ জনগোষ্ঠী নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে পাড়ি জমান পরদেশে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র। গ্রামের সহজ-সরল মানুষেকে অধিক উপার্জনের সুযোগ করে দেয়ার কথা বলে পাচার করা হচ্ছে বিভিন্ন দেশে।

স্থানীয় এবং ওইসব দেশের নাগরিকদের সহযোগিতায় অপহরণও করা হয় তাদের। বিশেষ করে নিজেদের ভাগ্য ফেরানোর আশায় লিবিয়া, মালয়েশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোদের তুলে নিয়ে গিয়ে আদায় করা হচ্ছে মুক্তিপণ। অপহরণকারীদের দাবি মতো টাকা দিতে না পারলে শিকার হচ্ছেন নির্যাতনের।

বিদেশে পাঠাতে প্রতারকচক্র ব্যবহার করছে জাল পাসপোর্ট, ভিসা, টিকিট। সাধারণ মানুষের দেখে বোঝারও উপায় নেই যে, এসব ভিসা, পাসপোর্ট, টিকিট জাল। একটু বেশি টাকা দিলেই সহজে মিলছে পুলিশের নো অবজেকশন সার্টিফিকেটও (পুলিশ ক্লিয়ারেন্স)। এভাবে বিদেশ গিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেকেই।

সম্প্রতি ভারত, মালয়েশিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, ইতালি, কানাডা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, বলিভিয়াসহ বিভিন্ন দেশে মানবপাচারকারী চক্রের ১৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গেলো ২০০৭ সাল থেকে তারা প্রতারণার মাধ্যমে জাল ভিসা, পাসপোর্ট, টিকিট দিয়ে বিদেশে মানবপাচার করে আসছে। তাদের জিম্মা থেকে উদ্ধার করা হয় ৬ ভিকটিমকেও।

গেলো ১৭ ডিসেম্বর লিবিয়া প্রবাসী হোলের ভাই লাল মিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে মাঠে নামে র‌্যাব। ১৮ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর রাত ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় ১৬ প্রতারককে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২১টি পাসপোর্ট, ১ হাজার ৯৮১টি বিভিন্ন দেশের জাল ভিসা, একটি আইডি কার্ড মেশিন, ১৬ ফয়েল মেশিন, একটি ফটোকপি মেশিন, চারটি প্রিন্টার, দু’টি লেমিনিটিং মেশিন, ১০১টি সিলমোহর, ৮৫০টি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ৭টি বিএমইটি ইমিগ্রেশন জাল কার্ড, ৫টি জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স, ১০টি মোবাইল ফোন, ৩টি এটিএম কার্ড ও নগদ ১১ লাখ, ৬৯ হাজার ৮৬৮ টাকা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা।

এ বিষয়ে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান বলেন, ‘একটি চক্র গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে বিদেশে অধিক অর্থ উপার্জনের লোভ দেখিয়ে তাদের অপহরণ করছে। এরপর তাদের জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে মুক্তিপণ। বিদেশে লোক পাঠানোর কোনো বৈধ কাগজপত্রও নেই তাদের। তারা সম্পূর্ণ প্রতারণার মাধ্যমে লোক ঠকিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এমনকি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সিল মোহর নকল করে তারা তৈরি করে পাসপোর্ট ও ভিসা।’

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র জাল ভিসা, টিকিট, পাসপোর্টের মাধ্যমে যাদের বিদেশে পাঠিয়ে তাদের বেশিরভাগই বনে-জঙ্গলে মানবেতর জীবনযাপন করছে। চক্রটি প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অনেক নারীকে পতিতাবৃত্তিতেও বাধ্য করছে। বিশেষ করে গ্রামের সহজ-সরল লোকদের লিবিয়ায় পাঠিয়ে তাদের জিম্মি করে। পরে তাদের পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করে। এ কাজে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি ও লিবিয়ান নাগরিকরা এ চক্রকে সহযোগিতা করে।’

‘গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা ২০০৭ সাল থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে বিদেশে মানবপাচার করে আসছে। তারা মূলত বিমান, স্থল ও নৌপথে ভারত, মালয়েশিায়া, চীন, থাইল্যান্ড, মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, কানাডা, বলিভিয়া, মোজাম্বিক, নিউজিল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশে মানবপাচার করে। স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে সিলেট, মাদারীপুর, নোয়াখালী ও ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোর সরল মানুষই তাদের টার্গেট।’

তিনি আরো বলেন, ‘মানবপাচাররোধে র‌্যাব এখন পর্যন্ত ১৫২টি অভিযান পরিচালনা করেছে। গ্রেপ্তার করেছে এ চক্রের ৪৩২ সদস্যকে। এসব অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৬৯৬ জন ভিকটিমকে।’

ইউটিউবে আমাদের রান্নার সব ভিডিও দেখতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুণ

To Top